Wednesday, November 27, 2013

আমার পুরস্কার বা উপহার (My gift or prizes)


গিফট বা পুরস্কার পেতে যে কি ভালো লাগে। ভাবছেন এই বয়সে একি ছেলে মানুষী। আরে বাবা, আমার যে খুব ভালো লাগে, তার কি হবে। বয়স তো নিজে নিজে বেড়েছে, আমি কি বাড়িয়েছি?

আমার আম্মা সব সময়ই আমাদের জন্মদিন সাধ্য মতো ঘটা করা পালন করেছেন। যেহেতু বছরের শুরুতে, বাসার সবার মধ্যে, আমার জন্মদিনটা আগে তাই সব চেয়ে আনন্দ আর হইচই আমার জন্মদিনেই হতো। এবং অবশ্যই উপহার পেতাম এবং এখনও পাই (অনেক সময় নিজেরই সবাইকে মনে করিয়ে দিতে হয়, যে সামনে আমার জন্মদিন যে যা পার সময় থাকতে কিনে নাও, পরে বলবে না যে মনে ছিল না)।
আমার ছেলের জানুয়ারীতে আসার কথা ছিল, সিজার করে বেচারাকে ডিসেম্বরেই দুনিয়ার মুখ দেখাতে হয়েছে। ফলে সবার আগে না হয়ে ওর জন্মদিন সবার শেষে।

আম্মা-আব্বা এই মামলায় একটু কিপটামি করেন। বছরে যখনই কিছু কিনে দেন, বলেন, এটাই তোমার জন্মদিনের উপহার, জন্মদিনে আর কিছু চাবে না। :( 

জন্মদিনের পর পুরস্কার পাওয়া শুরু করলাম স্কুলে থাকতে। একসময় এটা অভ্যাসে পরিনত হলো। যেন প্রতি বছর আমাকে বেশ কিছু পুরস্কার পেতে হবে এটাই নিয়ম। নিয়মের ব্যাতিক্রম ঘটলো ক্লাস ৫ থেকে। বড় স্কুলে আর তেমন পুরস্কার পেতাম না। তারপরও ক্লাস ১০ এ বিদায়ী ছাত্রী হিসাবে অনেক কিছু পেয়ে ছিলাম সবাই।

লটারীর পুরস্কার দেখলেই খুব লোভ হয়। তবে লোভে পড়েও কখনও কিনি নাই। কারন আমার লটারী ভাগ্যটা কেমন যেন। নিশ্চিত পুরস্কার না থাকলে ভাগ্যে কিছু জুটেনি।

 ছেলে হবার পর ছেলের মুখ দেখে অনেকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কেউ কেউ আমার জন্য দিয়েছেন, খুবই ভাল লেগেছে।

এখন নিজেই নিজেকে মাঝে মাঝে পুরস্কার দেই, বড় কোন কাজ করার পর। কখনও বড় কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার পর, কষ্ট হলেও যা আমি পালন করবো বলে ঠিক করি। ভালই লাগে নিজের দেয়া পুরস্কার নিতে। পুরস্কার আর উপহার সব সময়ই ভাল, সে যেখান থেকে, যখনই আসুক না কেন। 
Post a Comment