Tuesday, April 15, 2014

এবারের পহেলা বৈশাখ (this new year)


আগে সব বৈশাখ পালন করতাম, সেজেগুজে, দাওয়াত খেয়ে, ঘুরে বেরিয়ে. এবার প্রথম ঠিক করলাম, নিজে আয়োজন করব. আবার ছেলে নিয়ে একটু বেরও হব. মেনু ঠিক করলাম, স্টিম রাইস এর সাথে ইলিশ মাছ ভাজা আর ডাল সহ নানা শাক সবজির ভর্তা. রাতে ছেলেকে নিয়ে চাইনিজ সিজলিং এ যাব. যেখানে ভুতের আড্ডার মত ভুত দেখানো হয়.

প্লান মোতাবেক, ছেলে স্কুলে রেখে, রাস্তার পাশের নানা সবজি ওয়ালা থেকে নানা রকমের সবজি কিনলাম (পটল, ঝিংগা, পেপে, ঢেরস, সিম, ধনে পাতা, মিষ্টি আলু ইত্যাদি). সেই সাথে লেবু, ডাল, সরিষার তেলও কিনলাম. মিনা বাজার থেকে কিনলাম নাড়ু, ইলিশ মাছ. ৭০০ গ্রাম ইলিশ নিল ৫৫০ টাকা. বাসায় ফিরে সব সবজি ভিনেগার পানিতে ভিজলাম. এরপর তুলে শুকিয়ে মুছে প্যাকেট করে ফ্রিজে রেখে দিলাম.

রান্নায় দেরী হবে দেখে বৈশাখের সকালে আর নাস্তা বানালাম না. চা বিস্কুট দিয়েই কাজ চালালাম. ছেলেকে সাজিয়ে বাইরে ঘুরতে পাঠালাম. নাহলে ও কিছু করতে দিচ্ছিলনা. এরপর শুরু হল যুদ্ধ. মাছ ভিজিয়ে সবজি ধুয়ে কেটে  সিদ্ধ হতে দিলাম. পিয়াজ ছিলে কুচি করে কেটে রাখলাম. আম্মার বাগান থেকে কাঁচা মরিচ তুলে কুচি করে কাটলাম. ধনে পাতা বেছে ধুয়ে কুচি করে কেটে রাখলাম.

এরপর মাছ সামলাতে বসলাম. আগে কখনো ইলিশ মাছ রেডি করিনি. তবে খাওয়ার সময় কিভাবে কেটেছে সেটা দেখেছি. সেই আন্দাজে মাছের আঁশ ছারালাম. সেই আঁশ আমার সারা গায়ে আর রান্না ঘরে ছড়িয়ে গেল. সেটা পরিস্কার করলাম. মাছ কাটতে গিয়ে দেখি ডিম ওয়ালা মাছ. ডিম তুলে রাখলাম, পরে রান্না করা যাবে. ভোতা ছুরি দিয়ে মাছ কাটতে খবর হয়ে গেল.

মাছ ভিনেগার দিয়ে ভাল করে ধুয়ে লবন আর হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখলাম ভাজার জন্য. আবার ভরতায় হাত দিলাম. এভাবে দুপুর ২টা পর্যন্ত যত পদের পারলাম তৈরী করলাম. এর মাঝে বরপা দিল টমেটো, ধনিয়া পাতা আর শুটকির ভর্তা আর আম্মা পাঠালো মিষ্টি আর দই.

সব মিলিয়ে বিশাল আয়োজন. খেতে বেশ ভালো লাগল. একেক সবজির একেক স্বাদ. শাফিনও খুব মজা করে খেল.

রান্নার কাজ শেষে কাপড় ধুয়ে নিলাম.

সন্ধায় মাগরিবের নামাজ পড়ে তৈরী হয়ে গেলাম নকল ভুতের আড্ডায়. মানে খিলগাঁও এর চাইনিজ সিজলিং এ. গিয়ে দেখি অনেক ভিড়. টেবিল পরিস্কার করতে, খাবারের অর্ডার নিতে, খাবার দিতে, বিল দিতে ওরা এত সময় নিল যে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বাজল. তবে শাফিন দৌড়াদৌড়ি করে খুব মজা করেছে. ভুত দেখেও ব্যাপক আনন্দ পেয়েছে.

তার উপর পরেছিলাম এক পাগল রিক্সা ওয়ালার পাল্লায়. ব্যাটা একেকবার রিক্সার হ্যান্ডেল ছেড়ে দিয়ে দেখায় কত ভাল চালাতে পারে. আবার অন্য রিক্সা পাল্লা দিয়ে ধরে. কত কি বলে. ভালয় ভালয় ঘরে পৌছেছি সেটাই আল্লার কাছে হাজার শোকর.

অদ্ভুত ব্যস্ততায় আনন্দে দিনটা কাটল. 
Post a Comment