Showing posts with label সামলান. Show all posts
Showing posts with label সামলান. Show all posts

Tuesday, December 3, 2013

ছেলে সামলাতে গিয়ে দিশাহারা

Shafeen playing at school

বাচ্চা জন্মের সাথে সাথেই জন্ম হয় এক নতুন মায়ের। কথাটা যে কত বড় সত্যি সেটা টের পেয়েছিলাম অপারেশন থিয়েটারে জ্ঞান ফিরার পর। একজন নার্স খুব মিস্টি স্বরে আমাকে জিগ্যেস করেছিলেন, এখন কেমন আছেন মা? আমি প্রথমে একটু চমকে গিয়েছিলাম, তারপর মনে হলো, তাই তো, আমি তো এখন মা হয়ে গিয়েছি।

তখন শুধু শুনেছিলাম, এখন মর্ম দিয়ে উপলব্ধি করছি। এই উপলব্ধির পালা তো মাত্র শুরু হয়েছে। এখনও অনেকটা পথ পারি দিতে হবে। আমি জানিনাহ তার আগেই আমি পাগল হয়ে যাব কিনা।

জন্মের পর থেকেই কত টেনশন, খাওয়া ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, পেটে সহ্য হচ্ছে কিনা, ঠান্ডা লাগলো কিনা, নাক বন্ধ হয়ে আছে কিনা, কাঁদছে কেন, পিপড়া কামড় দিলো না মশা ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাবতাম, কথা বলতে পারে না, কি হলো কিছুই তো বোঝাতে পারে না।

এরপর এখন শুরু হয়েছে প্রশ্নের উত্তর দেবার পালা। প্রশ্নকারী হয়রান হয় না, আমার মাথা খারাপ হবার জোগার। কি, কেন, কিভাবে, আবার কেন ইত্যাদি ইত্যাদি। খাইয়ে দিতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা লাগিয়ে, বাথরুম নিজে করলেও পরিস্কার করে দিতে হয়, জামা পরিয়ে দিতে হয়, সাথে খেলতে হয়, মশা হাত থেকে বাচিয়ে রাখতে হয়, রাস্তায় হাত ছাড়া যায়না, পড়তে বসাতে হয়, পড়াতে হয়, খাবার তৈরি করতে হয়, খেয়াল করে সব ধরনের খাবার (দুধ, ডিম, ফল, মধু, ভাত, গোশত, ডাল, সব্জি ইত্যাদি) সামান্য হলেও খেয়েছে কিনা, গোসল করানো, কখন কোথায় ময়লা ধরে বা খায় সেটা দেখা, যতক্ষন জেগে থাকে ৫ মিনিটের জন্যও চোখ বন্ধ করতে দেয় না। 

আমার মাথা আর কাজ করছে না। এতো কিছু ২৪ ঘন্টায় কিভাবে করবো? নিজের কথা তো আগেই ভুলে গিয়েছি। এখন ছেলে নিজেই কার্টুন দেখে বলে, দেখেছো, আম্মুটা কত সুন্দর করে সেজে থাকে! (মানে এখন থেকে ছেলের জন্য সাজগোজেরও অভ্যাস করতে হবে)